'জান্নাত' একটি আরবি শব্দ যার আভিধানিক অর্থ হলো বাগান, উদ্যান বা আবৃত স্থান। ইসলামী পরিভাষায়, জা'ন্নাত হলো পরকালে মুমিন ও পুণ্যবানদের জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি চিরস্থায়ী এবং অতি মনোরম আবাসস্থল। ফার্সি ভাষায় একে 'বেহেশত' এবং বাংলায় 'স্বর্গ' বলা হয়।
জান্নাত সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
- জান্নাতের স্তরসমূহ: জা'ন্নাতের অনেকগুলো স্তর বা দরজা রয়েছে। প্রসিদ্ধ ৮টি নাম হলো— জা'ন্নাতুল ফিরদাউস, জা'ন্নাতুল মা’ওয়া, জা'ন্নাতুল আদন, জা'ন্নাতুন নাঈম, জা'ন্নাতুল খুলদ, দারুস সালাম, দারুল মাকাম এবং দারুল কারার।
- বিস্ময়কর নির্মাণ: হাদিস অনুযায়ী, জা'ন্নাতের একটি ইট সোনা ও অন্যটি রুপা দিয়ে তৈরি এবং এর গাঁথুনি হলো সুগন্ধি মেশক।
- অফুরন্ত নেয়ামত: জা'ন্নাতে মুমিনরা যা চাইবেন তাই পাবেন। সেখানে থাকবে স্বচ্ছ পানির ঝরনা, দুধ ও মধুর নদী, সুস্বাদু ফলমূল এবং চিরস্থায়ী শান্তি। সবচেয়ে বড় নেয়ামত হবে মহান আল্লাহ তাআলার সরাসরি দর্শন লাভ করা।
- জান্নাত লাভের উপায়: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন, নিয়মিত ইবাদত এবং সৎ কর্মের মাধ্যমেই যান্নাত লাভ করা সম্ভব।
জা'ন্নাত লাভের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঈমান (বিশ্বাস) এবং নেক আমল (সৎ কাজ)।
জা'ন্নাতের সর্বোচ্চ স্তর এবং সেখানে যাওয়ার কিছু বিশেষ আমল নিচে দেওয়া হলো:
১. জা'ন্নাতুল ফিরদাউস (সর্বোচ্চ স্তর)
এটি জা'ন্নাতের সবচেয়ে উত্তম ও উঁচু স্তর। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা যখন আল্লাহর কাছে জা'ন্নাত চাইবে, তখন জা'ন্নাতুল ফিরদাউস চাইবে।"
- আমল: নিয়মিত বিনয়ের সাথে নামাজ আদায় করা, অনর্থক কথা ও কাজ থেকে দূরে থাকা, জাকাত প্রদান করা এবং নিজের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। (সুরা মুমিনুন: ১-১১)
২. জান্নাতের আটটি দরজা ও বিশেষ আমল
জান্নাতুল আদন
হাদিস অনুযায়ী জা'ন্নাতের আটটি বিশেষ দরজা আছে, যা নির্দিষ্ট আমলকারীদের জন্য খোলা হবে:
- বাবুস সালাত: যারা নিয়মিত ও সুন্দরভাবে নামাজ পড়তেন।
- বাবুল জিহাদ: যারা আল্লাহর পথে লড়াই করেছেন।
- বাবুর রাইয়ান: এই দরজা দিয়ে শুধুমাত্র রোজাদাররা প্রবেশ করবেন।
- বাবুস সাদাকাহ: যারা বেশি বেশি দান-সদকা করতেন।
৩. সহজে জা'ন্নাত পাওয়ার কিছু ছোট আমল
- আয়াতুল কুরসি: ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে মৃত্যু ছাড়া জা'ন্নাতে যেতে আর কোনো বাধা থাকে না।
- উত্তম চরিত্র: মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা জা'ন্নাতে যাওয়ার অন্যতম সহজ পথ।
- মাতা-পিতার সেবা: মা-বাবার সন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং যান্নাত নিহিত।
- সুন্নত পালন: ওজুর পর কালিমা শাহাদাত পাঠ করা এবং অজুর পর দুই রাকাত 'তহিয়াতুল ওজু' নামাজ পড়া।
জা'ন্নাতিদের জীবনযাপন হবে চিরসুখ ও অফুরন্ত নেয়ামতে ভরপুর, যা মানুষের কল্পনারও বাইরে। কুরআন ও হাদিসের বর্ণনায় তাদের জীবনযাত্রার কিছু চমৎকার দিক নিচে দেওয়া হলো:
১. শারীরিক গঠন ও চিরযৌবন
- বয়স ও সৌন্দর্য: জা'ন্নাতে প্রবেশের সময় প্রত্যেকের বয়স হবে ৩০ থেকে ৩৩ বছর এবং তারা চিরকাল এই বয়সেই থাকবেন। কোনো বার্ধক্য, রোগব্যাধি বা ক্লান্তি তাদের স্পর্শ করবে না।
- উচ্চতা ও আকৃতি: তারা আদি পিতা আদম (আ.)-এর মতো বিশাল উচ্চতাবিশিষ্ট (প্রায় ৬০ হাত) এবং ইউসুফ (আ.)-এর মতো সুন্দর হবেন।
- পবিত্রতা: জা'ন্নাতিদের মলমূত্র ত্যাগের প্রয়োজন হবে না; বরং ঢেকুর এবং সুগন্ধি ঘামের মাধ্যমেই সব হজম হয়ে যাবে। তাদের ঘাম হবে মেশকের মতো সুগন্ধিযুক্ত।
২. আরাম-আয়েশ ও ঘরবাড়ি
- বিলাসবহুল আবাস: জা'ন্নাতিরা সোনা ও রুপার তৈরি প্রাসাদে এবং মুক্তার তৈরি তাঁবুতে বসবাস করবেন। তারা রেশমের পোশাক এবং সোনা-মুক্তার অলঙ্কার পরিধান করবেন।
- আসন: তারা মখমল ও কারুকার্যখচিত আসনে একে অপরের মুখোমুখি হয়ে হেলান দিয়ে বসে গল্পগুজব করবেন।
৩. খাবার ও পানীয়
- অফুরন্ত বৈচিত্র্য: তারা যা চাইবেন, চোখের সামনে তাৎক্ষণিক তা হাজির হবে। সেখানে থাকবে স্বচ্ছ পানি, দুধ, মধু ও সুস্বাদু শরবতের নহর বা নদী।
- খাদ্যের স্বাদ: প্রতিটি লোকমা বা চুমুক হবে অতুলনীয় স্বাদের। তারা সোনা ও রুপার পাত্রে খাবার গ্রহণ করবেন।
৪. বিনোদন ও সামাজিক জীবন
- পরিবার ও বন্ধু: জা'ন্নাতে মুমিনরা তাদের নেককার পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের সাথে মিলিত হতে পারবেন। সেখানে কোনো ঝগড়া, হিংসা বা অপ্রীতিকর কথা থাকবে না।
- শুক্রবার ও বাজার: জা'ন্নাতে প্রতি শুক্রবার একটি বিশেষ বাজার বসবে। সেখান থেকে জা'ন্নাতিরা যখন ফিরে আসবেন, তখন তাদের রূপ-লাবণ্য আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।
- ভ্রমণ: কেউ যদি চায়, তবে সে ডানাবিশিষ্ট দ্রুতগামী ঘোড়ায় চড়ে জা'ন্নাতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উড়ে বেড়াতে পারবে।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো আল্লাহ তাআলার দর্শন লাভ করা, যা হবে জান্নাতের সেরা নেয়ামত।
জা'ন্নাতের বর্ণনা তো জানলেন, আপনি কি জা'ন্নাতিদের এই অফুরন্ত নেয়ামত পাওয়ার শর্ত বা গুণাবলী সম্পর্কে জানতে চান?
জা'ন্নাতের এই অভাবনীয় নেয়ামতগুলো লাভের জন্য পবিত্র কুরআন ও হাদিসে কিছু বিশেষ গুণাবলীর কথা বলা হয়েছে। মূলত যারা নিজেদের জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির রঙে সাজান, তারাই এই পুরস্কারের অধিকারী হবেন।
জা'ন্নাতি হওয়ার প্রধান শর্ত ও গুণাবলীগুলো হলো:
১. দৃঢ় ঈমান (বিশ্বাস): আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে বিশ্বাস করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো পথে চলা। শিরক বা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা।
২. তাকওয়া বা আল্লাহভীতি: জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহকে ভয় করা। কোনো অন্যায় করার সুযোগ থাকলেও "আল্লাহ আমাকে দেখছেন"—এই চিন্তা থেকে নিজেকে বিরত রাখা লাভের চাবিকাঠি।
৩. নিয়মিত সালাত (নামাজ): জা'ন্নাতের চাবিকাঠি হলো নামাজ। যারা নিষ্ঠার সাথে সময়মতো নামাজ আদায় করেন, তাদের জন্য জা'ন্নাতের ফয়সালা নিশ্চিত করা হয়েছে।
৪. উত্তম চরিত্র ও নম্রতা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যাকে নরম স্বভাব এবং উত্তম চরিত্র দেওয়া হয়েছে, তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের সব কল্যাণ দেওয়া হয়েছে।" মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার এবং ক্ষমা করার গুণ জা'ন্নাতিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৫. পাপের পর তওবা করা: মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু জা'ন্নাতিরা ভুলের পরপরই আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয়ে ক্ষমা চান এবং সেই ভুল আর না করার প্রতিজ্ঞা করেন।
৬. পবিত্রতা ও সততা: যারা হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকেন এবং সত্য কথা বলেন। আমানত রক্ষা করা এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পালন করা জা'ন্নাতিদের গুণ।
৭. ধৈর্য ও শোকর: বিপদে ধৈর্য ধারণ করা এবং সুখের সময়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।
৮. পিতামাতার আনুগত্য: পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম সহজ পথ। বলা হয়েছে, "মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জা'ন্নাত।"
জা'ন্নাত লাভের পথ সহজ করার জন্য কিছু ছোট কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী আমল ও দোয়া নিচে দেওয়া হলো, যা আপনি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে পারেন:
১. আয়াতুল কুরসি (জান্নাতের নিশ্চয়তা):
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জা'ন্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।" (নাসায়ি)
- সময়: প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর।
২. জা'ন্নাত চেয়ে দোয়া (তিনবার):
হাদিসে এসেছে, কোনো মুসলিম যদি আল্লাহর কাছে তিনবার জা'ন্নাত চায়, তবে জা'ন্নাত নিজেই আল্লাহর কাছে দোয়া করে— "হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।"
- দোয়া: "আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাহ" (হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জা'ন্নাত প্রার্থনা করছি)।
৩. সাইয়িদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দোয়া):
যদি কেউ বিশ্বাসের সাথে দিনের বেলা এই দোয়াটি পড়ে এবং সন্ধ্যা হওয়ার আগে মারা যায়, তবে সে জান্নাতি হবে। একইভাবে রাতে পড়ে সকালের আগে মারা গেলেও সে জান্নাতি হবে। (বুখারি)
- সময়: প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায়।
৪. ওজুর পর কালিমা শাহাদাত:
যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওজু করার পর বলবে— "আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু", তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হয়। (মুসলিম)
৫. তিনটি সহজ জিকির:
- সুবহানাল্লাহ (৩৩ বার), আলহামদুলিল্লাহ (৩৩ বার), আল্লাহু আকবার (৩৪ বার): প্রতিবার ঘুমানোর আগে এবং নামাজের পর।
- লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ: এটি জান্নাতের গুপ্তধনগুলোর একটি।
একটি বিশেষ টিপস:
সবসময় চেষ্টার করবেন যেন আপনার মাধ্যমে কোনো মানুষ কষ্ট না পায়। কারণ মানুষের হক (হক্কুল ইবাদ) নষ্ট করলে জান্নাতে যাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
আপনার অনুরোধ অনুযায়ী আগের আমলগুলোর বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ নিচে দেওয়া হলো:
১. আয়াতুল কুরসি (সুরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত)
উচ্চারণ: আল্লা-হু লা-ইলা-হা ইল্লা-হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যূম। লা-তা’খুযুহূ সিনাতুঁ ওয়ালা-নাওম। লাহূ মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদ্ব। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ‘ইনদাহূ ইল্লা-বিইযনিহ। ইয়া’লামু মা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা-খালফাহুম। ওয়ালা-ইউহীতূনা বিশাইয়্যিম মিন ‘ইলমিহী ইল্লা-বিমা-শা-আ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা- ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা-, ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়্যুল ‘আযীম।
অর্থ: আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করার সাধ্য কার আছে? তাদের সম্মুখে ও পেছনে যা কিছু আছে সব তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসি আসমান ও জমিন পরিব্যাপ্ত। আর এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি অতি উচ্চ, অতি মহান।
২. জান্নাত চাওয়ার দোয়া
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাহ।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জা'ন্নাত প্রার্থনা করছি।
৩. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমার শ্রেষ্ঠ দোয়া)
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা খালাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাত্বা’তু, আঊযুবিকা মিন শাররি মা সানা’তু, আবূউ লাকা বিনি’মাতিকা ‘আলাইয়্যা ওয়া আবূউ বিযাম্বী ফাগফিরলী ফায়িন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার গোলাম। আমি আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর সাধ্যমতো কায়েম আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আপনার যে নেয়ামত আমার ওপর আছে তা স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন, কারণ আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
৪. ওজুর পরের কালিমা শাহাদাত
উচ্চারণ: আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।
অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
৫. জান্নাতের গুপ্তধন (জিকির)
উচ্চারণ: লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ থেকে ফেরার) কোনো উপায় নেই এবং (নেক কাজ করার) কোনো শক্তি নেই।
আমি এখন প্রস্তুত জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া এবং উপায়গুলো সম্পর্কে জানানোর জন্য। আপনি চাইলে আমি পরবর্তী মেসেজে তা বিস্তারিত লিখে দিতে পারি।
আপনি কি জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়াগুলো এখনই জানতে চান?
জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার জন্য কিছু অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ দোয়া নিচে দেওয়া হলো:
১. জাহান্নাম থেকে মুক্তির সহজ দোয়া (তিনবার)
হাদিসে আছে, কোনো মুসলিম যদি দিনে তিনবার জাহান্নাম থেকে মুক্তি চায়, তবে জাহান্নাম নিজে আল্লাহর কাছে বলে— "হে আল্লাহ! একে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন।"
- দোয়া: আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান নার।
- অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।
- সময়: বিশেষ করে ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর ৭ বার এবং অন্যান্য সময়ে অন্তত ৩ বার পড়া উত্তম।
২. রাব্বানা দোয়া (কুরআন থেকে)
পবিত্র কুরআনে জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য এই দোয়াটি শেখানো হয়েছে:
- দোয়া: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাঁও ওয়াক্বিনা আযাবান নার। (সুরা বাকারা: ২০১)
- অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।
৩. জাহান্নামের শাস্তি থেকে আশ্রয়ের দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের শেষ বৈঠকে (তাশাহহুদ ও দরুদের পর) এই দোয়াটি পড়তেন:
- দোয়া: আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন আযাবিল ক্বাবরি, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল মামাতি, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল।
- অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামের আজাব থেকে, কবরের আজাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে।
৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তির বিশেষ আমল
- তওবা ও ইস্তিগফার: প্রতিনিয়ত 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পড়া। কারণ আল্লাহ ক্ষমাশীলদের জাহান্নামে দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
- দান-সদকা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো, যদিও তা খেজুরের অর্ধেক অংশ দান করার বিনিময়ে হয়।"
- চোখের পানি: আল্লাহর ভয়ে যার চোখ দিয়ে পানি পড়ে, তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে যায়।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
জাহান্নাম থেকে বাঁচতে হলে অন্যের হক নষ্ট করা এবং জুলুম করা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। কারণ মানুষের পাওনা শোধ না করা পর্যন্ত আল্লাহ অনেক সময় মাফ করেন না।
জি অবশ্যই, আমরা জা'ন্নাত নিয়েই আলোচনা চালিয়ে যাব। আপনি একদম ঠিক শুনেছেন—আল্লাহ তাআলার সুন্দর সুন্দর নামগুলোর (আসমাউল হুসনা) বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহর ৯৯টি নাম আছে, যে ব্যক্তি এগুলো মুখস্থ করবে (বা মনে রাখবে এবং সে অনুযায়ী আমল করবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (সহীহ বুখারি)।
জা'ন্নাত লাভের আশায় আপনি যেভাবে এই নামগুলো জিকির করতে পারেন:
১. আল্লাহর সন্তুষ্টি: যখন আপনি আল্লাহর নামগুলো ধরে তাঁকে ডাকেন (যেমন: ইয়া আল্লাহ, ইয়া রাহমান, ইয়া রাহীম), তখন আল্লাহ খুব খুশি হন এবং বান্দার ডাক কবুল করেন।
২. দোয়া কবুলের মাধ্যম: কোনো কিছু চাওয়ার আগে আল্লাহর গুণবাচক নাম নিয়ে গুণকীর্তন করলে সেই দোয়া দ্রুত কবুল হয়।
৩. জা'ন্নাতের পথ সহজ হওয়া: এই নামগুলো পাঠ করলে অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং ঈমান মজবুত হয়, যা পরকালে জা'ন্নাত পাওয়ার পথ সুগম করে।
আপনি চাইলে প্রতিদিন অন্তত এই কয়েকটি নাম জিকির করতে পারেন:
- ইয়া হাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যূম (হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী)।
- ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরম (হে মহিমাময় ও মহানুভব)।
- ইয়া আরহামার রাহিমীন (হে শ্রেষ্ঠ দয়ালু)।
আল্লাহ তাআলার ৯৯টি নামের তালিকা ও অর্থ দেওয়া হলো। এই নামগুলো জা'ন্নাত লাভের এক বিশেষ মাধ্যম।
আল্লাহর ৯৯টি গুণবাচক নাম ও অর্থ
| ক্রম | নাম (আরবি) | উচ্চারণ | অর্থ |
|---|---|---|---|
| ১ | الله | আল্লাহ | আল্লাহ (এক ও অদ্বিতীয়) |
| ২ | الرحمن | আর-রাহমান | পরম দয়ালু |
| ৩ | الرحيم | আর-রাহীম | অতিশয় মেহেরবান |
| ৪ | الملك | আল-মালিক | সর্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী |
| ৫ | القدوس | আল-কুদ্দুস | অতি পবিত্র |
| ৬ | السلام | আস-সালাম | শান্তিদাতা |
| ৭ | المؤمن | আল-মু’মিন | নিরাপত্তা দানকারী |
| ৮ | المهيمن | আল-মুহাইমিন | রক্ষক ও অভিভাবক |
| ৯ | العزيز | আল-আজিজ | মহা পরাক্রমশালী |
| ১০ | الجبار | আল-জাব্বার | প্রবল প্রতাপশালী |
| ১১ | المتكبر | আল-মুতাকাব্বির | শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী |
| ১২ | الخالق | আল-খালিক | সৃষ্টিকর্তা |
| ১৩ | البارئ | আল-বারী | সঠিক আকার দানকারী |
| ১৪ | المصور | আল-মুসাব্বির | আকৃতিদানকারী |
| ১৫ | الغفار | আল-গাফফার | পরম ক্ষমাশীল |
| ১৬ | القهار | আল-কাহহার | কঠোর দমনকারী |
| ১৭ | الوهاب | আল-ওয়াহহাব | মহাসাতা |
| ১৮ | الرزاق | আর-রাজ্জাক | রিজিকদাতা |
| ১৯ | الفتاح | আল-ফাত্তাহ | বিজয়দানকারী |
| ২০ | العليم | আল-আলীম | সর্বজ্ঞ |
| ২১ | القابض | আল-কাবিদ | সংকুচিতকারী |
| ২২ | الباسط | আল-বাসিত | প্রশস্তকারী |
| ২৩ | الخافض | আল-খাফিদ | অবনতকারী |
| ২৪ | الرافع | আর-রাফি | উন্নতকারী |
| ২৫ | المعز | আল-মুইজ | সম্মান দানকারী |
| ২৬ | المذل | আল-মুযিল | অসম্মানকারী |
| ২৭ | السميع | আস-সামি | সর্বশ্রোতা |
| ২৮ | البصير | আল-বাসীর | সর্বদ্রষ্টা |
| ২৯ | الحكم | আল-হাকাম | মিমাংসাকারী |
| ৩০ | العدل | আল-আদল | পরম ন্যায়বিচারক |
| ৩১ | اللطيف | আল-লাতীফ | অতিশয় দয়ালু/সুক্ষ্মদর্শী |
| ৩২ | الخبير | আল-খাবীর | সম্যক অবগত |
| ৩৩ | الحليم | আল-হালীম | পরম ধৈর্যশীল |
| ৩৪ | العظيم | আল-আজীম | অতি মহান |
| ৩৫ | الغفور | আল-গাফুর | পরম ক্ষমাশীল |
| ৩৬ | الشكور | আশ-শাকূর | গুণগ্রাহী |
| ৩৭ | العلي | আল-আলী | সুউচ্চ |
| ৩৮ | الكبير | আল-কাবীর | অতি বড় |
| ৩৯ | الحفيظ | আল-হাফীজ | মহ রক্ষক |
| ৪০ | المقيت | আল-মুকীত | আহার্য দানকারী |
| ৪১ | الحسيب | আল-হাসীব | হিসাব গ্রহণকারী |
| ৪২ | الجليل | আল-জালীল | প্রতাপশালী |
| ৪৩ | الكريم | আল-কারীম | মহা দয়ালু |
| ৪৪ | الرقيب | আর-রাকীব | তত্ত্বাবধায়ক |
| ৪৫ | المجيب | আল-মুজিব | কবুলকারী |
| ৪৬ | الواسع | আল-ওয়াসি | অসীম |
| ৪৭ | الحكيم | আল-হাকীম | পরম প্রজ্ঞাময় |
| ৪৮ | الودود | আল-ওয়াদুদ | প্রেমময় |
| ৪৯ | المجيد | আল-মাজীদ | মহিমান্বিত |
| ৫০ | الباعث | আল-বাইস | পুনরুত্থানকারী |
| ৫১ | الشهيد | আশ-শাহীদ | সাক্ষ্যদাতা |
| ৫২ | الحق | আল-হাক্ক | চিরসত্য |
| ৫৩ | الوكيل | আল-ওয়াকীল | কর্মবিধায়ক |
| ৫৪ | القوي | আল-কাবি | মহা শক্তিশালী |
| ৫৫ | المتين | আল-মাতীন | সুদৃঢ় |
| ৫৬ | الولي | আল-ওয়ালি | অভিভাবক ও বন্ধু |
| ৫৭ | الحميد | আল-হামীদ | মহা প্রশংসিত |
| ৫৮ | المحصي | আল-মুহসী | হিসাব সংরক্ষণকারী |
| ৫৯ | المبدئ | আল-মুবদী | অস্তিত্ব দানকারী |
| ৬০ | المعيد | আল-মুঈদ | পুনরায় সৃষ্টিকারী |
| ৬১ | المحيي | আল-মুহয়ী | জীবন দানকারী |
| ৬২ | المميت | আল-মুমীত | মৃত্যু দানকারী |
| ৬৩ | الحي | আল-হাইয়্যু | চিরঞ্জীব |
| ৬৪ | القيوم | আল-কাইয়্যূম | স্বয়ংসম্পূর্ণ |
| ৬৫ | الواجد | আল-ওয়াজিদ | যা চান তা অর্জনকারী |
| ৬৬ | الماجد | আল-মাজিদ | উন্নত মর্যাদার অধিকারী |
| ৬৭ | الواحد | আল-ওয়াহিদ | একক |
| ৬৮ | الصمد | আস-সামাদ | অমুখাপেক্ষী |
| ৬৯ | القادر | আল-কাদির | সামর্থ্যবান |
| ৭০ | المقتدر | আল-মুকতাদির | প্রবল শক্তিশালী |
| ৭১ | المقدم | আল-মুকাদ্দিম | অগ্রাধিকার দানকারী |
| ৭২ | المؤخر | আল-মুয়াখখির | পশ্চাৎপদকারী |
| ৭৩ | الأول | আল-আউয়াল | অনাদি |
| ৭৪ | الآخر | আল-আখির | অনন্ত |
| ৭৫ | الظاهر | আজ-জাহির | প্রকাশ্য |
| ৭৬ | الباطن | আল-বাতিন | অপ্রকাশ্য |
| ৭৭ | الوالي | আল-ওয়ালী | অধিপতি |
| ৭৮ | المتعالي | আল-মুতাআলী | সর্বোচ্চ মর্যাদাবান |
| ৭৯ | البر | আল-বার | পরম দাতা |
| ৮০ | التواب | আত-তাওয়াব | তওবা কবুলকারী |
| ৮১ | المنتقم | আল-মুনতাকিম | প্রতিশোধ গ্রহণকারী |
| ৮২ | العفو | আল-আফুউ | পরম ক্ষমাশীল |
| ৮৩ | الرؤوف | আর-রাউফ | অতিশয় দয়ালু |
| ৮৪ | مالك الملك | মালিকুল মুলক | সমগ্র জগতের মালিক |
| ৮৫ | ذو الجلال والإكرام | যুল জালালি ওয়াল ইকরম | মহিমাময় ও মহানুভব |
| ৮৬ | المقسط | আল-মুকসিত | ন্যায়পরায়ণ |
| ৮৭ | الجامع | আল-জামি | একত্রকারী |
| ৮৮ | الغني | আল-গণি | অভাবমুক্ত/ধনী |
| ৮৯ | المغني | আল-মুগনী | অভাব মোচনকারী |
| ৯০ | المانع | আল-মানি | প্রতিরোধকারী |
| ৯১ | الضار | আদ-দারু | ক্ষতি সাধনকারী (আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ ক্ষতি করতে পারে না) |
| ৯২ | النافع | আন-নাফি | কল্যাণকারী |
| ৯৩ | النور | আন-নূর | জ্যোতি |
| ৯৪ | الهادي | আল-হাদী | পথপ্রদর্শক |
| ৯৫ | البديع | আল-বাদী | অপূর্ব সৃজনকারী |
| ৯৬ | الباقي | আল-বাকী | চিরস্থায়ী |
| ৯৭ | الوارث | আল-ওয়ারিস | উত্তরাধিকারী |
| ৯৮ | الرشيد | আর-রাশীদ | সঠিক পথপ্রদর্শক |
| ৯৯ | الصبور | আস-সাবূর | পরম ধৈর্যশীল |
আল্লাহর এই নামগুলো আপনি নামাজের পর বা অবসরে জিকির করতে পারেন।
জান্নাতের সুগন্ধি এতটাই তীব্র এবং মনোমুগ্ধকর হবে যে, তা অবিশ্বাস্য দূর থেকে অনুভব করা যাবে। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী:
জান্নাতের সুগন্ধির দূরত্ব:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জান্নাতের সুগন্ধি ৪০ বছরের পথ দূর থেকে পাওয়া যাবে (সহীহ বুখারি)। অন্য কিছু বর্ণনায় এই দূরত্ব ৭০ বছর, এমনকি ১০০ বছরের পথ দূরত্বের সমান বলা হয়েছে।
এর মানে হলো, একজন মুমিন হাশরের ময়দান থেকে জান্নাতের দিকে রওনা হওয়ার অনেক আগেই জান্নাতের সুঘ্রাণ পেতে শুরু করবেন। এই সুগন্ধি তার অন্তরে প্রশান্তি জাগিয়ে তুলবে এবং জান্নাতে প্রবেশের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দেবে।
তবে একটি সতর্কতাও হাদিসে এসেছে—যারা অহংকার করে বা ইসলামের বিধান অমান্য করে, তারা জান্নাতের এত তীব্র সুগন্ধি থাকা সত্ত্বেও তা পাবে না।
পরের মেসেজে আমি কি আপনাকে জান্নাতে মুমিনদের জন্য রাখা বিশেষ পুরস্কারগুলো সম্পর্কে জানাব? সেখানে এমন কিছু নেয়ামতের কথা আছে যা কোনো চোখ দেখেনি এবং কোনো কান শোনেনি!
জান্নাতে মুমিনদের জন্য আল্লাহ তাআলা এমন সব পুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন, যা পৃথিবীর কোনো মানুষ কোনোদিন কল্পনাও করতে পারেনি। কুরআন ও হাদিসের আলোকে জান্নাতের বিশেষ কিছু পুরস্কার নিচে দেওয়া হলো:
১. জান্নাতের বিশেষ পুরস্কারসমূহ
- আল্লাহর দিদার (দর্শন): এটি হবে জান্নাতের সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার। জান্নাতিরা পূর্ণিমার চাঁদের মতো স্পষ্টভাবে আল্লাহ তাআলাকে দেখতে পাবেন। তখন তারা অন্য সব নেয়ামতের কথা ভুলে যাবেন।
- সর্বনিম্ন জান্নাতির পুরস্কার: হাদিস অনুযায়ী, জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তিকে আল্লাহ এই পৃথিবীর সমান ১০টি পৃথিবীর সমান জায়গা এবং রাজত্ব দান করবেন। (সহীহ বুখারি)
- বাঞ্ছিত বস্তু লাভ: জান্নাতে কোনো কিছু খাওয়ার বা পাওয়ার ইচ্ছা হওয়া মাত্রই তা সামনে হাজির হয়ে যাবে। এমনকি পাখিকে দেখে খাওয়ার ইচ্ছা করলে তা ভুনা হয়ে সামনে চলে আসবে।
- হূর ও গিলমান: জান্নাতিদের সেবার জন্য থাকবে অপূর্ব সুন্দরী হূর এবং মুক্তার মতো সুন্দর কিশোর সেবক (গিলমান)।
- সবুজ উদ্যান ও নহর: তারা এমন বাগানে থাকবেন যার নিচ দিয়ে দুধ, মধু, পানি ও পবিত্র পানীয়র (শরবত) ঝরনা প্রবাহিত হবে।
২. অহংকারের কিছু নমুনা (যা জা'ন্নাত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জা'ন্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।" অহংকারের কিছু সাধারণ নমুনা হলো:
- সত্যকে অস্বীকার করা: নিজের ভুল জানার পরও জেদ ধরে থাকা এবং আল্লাহর বিধান বা সত্য কথাকে মেনে না নেওয়া।
- মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা: বংশ, টাকা-পয়সা, পদমর্যাদা বা গায়ের রঙের কারণে অন্যকে নিজের চেয়ে নিচু মনে করা।
- জ্ঞানের বড়াই: নিজেকে অন্যের চেয়ে বেশি জ্ঞানী মনে করা এবং অন্যদের মূর্খ ভেবে অবজ্ঞা করা।
- ইবাদতের অহংকার: "আমি অনেক নামাজি বা অনেক ভালো মানুষ"—এমন ভেবে অন্যদের গোনাহগার মনে করে ঘৃণা করা।
- পোশাক ও চালচলনে দম্ভ: অন্যের মনে কষ্ট দেওয়ার জন্য বা নিজেকে বড় দেখানোর জন্য লোক দেখানো জাঁকজমক প্রদর্শন করা।
সংক্ষেপে, অহংকার হলো নিজেকে বড় মনে করা এবং অন্যকে ছোট ভাবা।
জান্নাতি নারীদের মর্যাদা
জান্নাতি নারীদের মর্যাদা সম্পর্কে ইসলামে অত্যন্ত চমৎকার ও সম্মানজনক বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। অনেকে মনে করেন জান্নাতে শুধু পুরুষরাই নেয়ামত পাবেন, কিন্তু আসলে জান্নাতি নারীদের জন্য আল্লাহ তাআলা এমন কিছু বিশেষ মর্যাদা রেখেছেন যা অতুলনীয়।
জান্নাতি নারীদের মর্যাদার কিছু বিশেষ দিক নিচে দেওয়া হলো:
১. জান্নাতি হূরদের চেয়েও রূপবতী
হাদিস অনুযায়ী, দুনিয়ার মুমিন নারীরা যখন জান্নাতে যাবেন, তখন তারা জান্নাতের হূরদের চেয়েও বহুগুণ বেশি সুন্দর ও মর্যাদাবান হবেন। এর কারণ হলো, তারা দুনিয়াতে কষ্ট করে ইবাদত করেছেন, নামাজ পড়েছেন এবং রোজা রেখেছেন, যা হূররা করেনি। ইবাদতের এই নূর তাদের সৌন্দর্যকে হূরদের তুলনায় সূর্যের সামনে প্রদীপের মতো করে দেবে।
২. জান্নাতের রানী
মুমিন নারীরা জা'ন্নাতে তাদের স্বামী এবং পরিবারের সাথে থাকবেন এবং তারা সেখানে রানীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হবেন। জা'ন্নাতের হূর ও সেবকরা তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।
৩. চিরযৌবন ও অপরূপ সৌন্দর্য
দুনিয়াতে নারীরা বার্ধক্য, রোগব্যাধি বা শারীরিক সীমাবদ্ধতার শিকার হন, কিন্তু জা'ন্নাতে প্রবেশের সাথে সাথে তারা চিরযৌবনা হয়ে যাবেন। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৩ বছরের মধ্যে স্থির থাকবে এবং তাদের সৌন্দর্য কখনো কমবে না, বরং দিন দিন বৃদ্ধি পাবে।
৪. বিশেষ পোশাক ও অলঙ্কার
জান্নাতি নারীদের পোশাক হবে সর্বোত্তম রেশমের তৈরি, যা হবে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও কারুকার্যখচিত। তারা সোনা, রুপা ও মণি-মুক্তার এমন অলঙ্কার পরবেন যা পৃথিবীর কোনো চোখ কখনো দেখেনি।
৫. কোনো দুঃখ বা অপ্রীতিকর অনুভূতি থাকবে না
জান্নাতি নারীদের মনে কোনো হিংসা, বিদ্বেষ, রাগ বা দুঃখ থাকবে না। এমনকি সতীনের প্রতি যে স্বাভাবিক ঈর্ষা দুনিয়াতে থাকে, জান্নাতে আল্লাহ তা অন্তর থেকে মুছে দেবেন। তারা পরম শান্তিতে বসবাস করবেন।
৬. জান্নাতের শ্রেষ্ঠ চার নারী
রাসুলুল্লাহ (সা.) চারজন নারীকে জান্নাতের শ্রেষ্ঠ নারী হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যারা পৃথিবীর সব নারীর জন্য আদর্শ:
- হযরত খাদিজা (রা.) (রাসুলুল্লাহ সা.-এর প্রথম স্ত্রী)
- হযরত ফাতিমা (রা.) (রাসুলুল্লাহ সা.-এর কন্যা)
- হযরত মরিয়ম (আ.) (ঈসা আ.-এর মা)
- হযরত আসিয়া (রহ.) (ফেরাউনের স্ত্রী, যিনি মুমিন ছিলেন)
একটি সুন্দর তথ্য: জান্নাতে একজন নারী তার সেই স্বামীর সাথেই থাকবেন, যাকে তিনি দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন এবং যিনি জান্নাতি হবেন।
জান্নাতিদের মিলনমেলা বা সেখানে তারা একে অপরের সাথে কীভাবে সময় কাটাবেন সে সম্পর্কে জানুন।
জান্নাতে মুমিনদের মিলনমেলা হবে অত্যন্ত আনন্দদায়ক এবং হার্দিক। এটি হবে দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার পর প্রিয়জনদের সাথে এক পরম পুনর্মিলন। জান্নাতিদের সামাজিক জীবন এবং সময় কাটানো সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে যা বলা হয়েছে:
১. সামনাসামনি আড্ডা ও গল্পগুজব
কুরআনে বলা হয়েছে, জান্নাতিরা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন আসনে (সোফায়) একে অপরের মুখোমুখি হয়ে হেলান দিয়ে বসবেন (সুরা হিজর: ৪৭)। তাদের মধ্যে কোনো পিঠাপিঠি বা দূরত্বের ভাব থাকবে না। তারা দুনিয়ার জীবনের স্মৃতি চারণ করবেন—কীভাবে তারা কষ্ট করে ইবাদত করেছিলেন, কীভাবে আল্লাহর রহমতে আজ তারা এখানে পৌঁছেছেন।
২. পরিবারের সাথে পুনর্মিলন
সবচেয়ে বড় আনন্দ হবে নিজের বাবা-মা, স্বামী/স্ত্রী এবং সন্তানদের সাথে থাকা। যদি পরিবারের সবাই মুমিন হয়, তবে আল্লাহ সবাইকে জান্নাতের একই স্তরে একত্রিত করবেন, যাতে তাদের চোখের তৃপ্তি পূর্ণ হয় (সুরা তূর: ২১)।
৩. জান্নাতের বিশেষ হাট বা বাজার
হাদিসে এসেছে, জান্নাতে প্রতি শুক্রবার একটি বাজার বসবে (সহীহ মুসলিম)। এটি কেনাবেচার বাজার নয়, বরং এটি হবে একটি মিলনমেলা। সেখানে জান্নাতিরা একে অপরের সাথে দেখা করবেন। সেই বাজারে একটি বিশেষ বাতাস প্রবাহিত হবে যা জান্নাতিদের শরীর ও পোশাকে সুগন্ধি ছড়িয়ে দেবে এবং তাদের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
৪. রুচিশীল আপ্যায়ন
তারা যখন একত্রে বসে গল্প করবেন, তখন তাদের সেবার জন্য কিশোর সেবকরা (গিলমান) সোনার থালায় সুস্বাদু ফলমূল এবং রূপার পাত্রে স্বচ্ছ পানীয় নিয়ে তাদের চারদিকে ঘুরে বেড়াবে। সেই পানীয় পান করলে তাদের মনে প্রশান্তি আর আনন্দ উপচে পড়বে।
৫. কোনো তিক্ততা থাকবে না
মিলনমেলার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, সেখানে কারো মনে কারো প্রতি কোনো ক্ষোভ, হিংসা বা ঘৃণা থাকবে না। আল্লাহ বলেন, "আমি তাদের অন্তর থেকে যাবতীয় হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেব" (সুরা আরাফ: ৪৩)। ফলে তাদের মিলনমেলা হবে নিখাদ ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের।
৬. ভ্রমণের আনন্দ
জান্নাতিরা যদি চান, তবে তারা এক জা'ন্নাত থেকে অন্য জান্নাতে ভ্রমণ করতে পারবেন। তাদের জন্য বিশেষ বাহন (যেমন ডানাওয়ালা ঘোড়া) থাকবে, যা চোখের পলকে তাদের কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছে দেবে।
সংক্ষেপে, জান্নাতীদের সময় কাটবে উৎসবের আমেজে, যেখানে কোনো বিরক্তি বা ক্লান্তি থাকবে না।
জান্নাত প্রবেশের সেই মুহূর্তটি কেমন হবে (যখন ফেরেশতারা স্বাগত জানাবেন)
জান্নাতে প্রবেশের সেই মুহূর্তটি হবে একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় এবং স্বস্তির মুহূর্ত। দীর্ঘ হাশরের ময়দানের ক্লান্তি আর হিসাব-নিকাশের ভয় শেষে যখন জান্নাতের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবেন, তখন যা ঘটবে:
১. অভ্যর্থনা ও ফেরেশতাদের সম্ভাষণ
মুমিনরা যখন জান্নাতের দরজায় পৌঁছাবেন, তখন জান্নাতের পাহারাদার ফেরেশতারা (যাদের প্রধানের নাম রেদওয়ান) অত্যন্ত হাসিমুখে তাদের অভ্যর্থনা জানাবেন। কুরআন মাজিদে সেই মুহূর্তের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে এভাবে:
"সালামুন আলাইকুম তিবতুম ফাদখুলুহা খালিদিন।" অর্থ: "তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা সুখী ও পবিত্র হয়েছ; অতএব চিরকাল বসবাসের জন্য এখানে প্রবেশ করো।" (সুরা যুমার: ৭৩)
২. জান্নাতের আটটি দরজা উন্মুক্ত হওয়া
জান্নাতিদের আমল অনুযায়ী জান্নাতের ৮টি দরজা খুলে দেওয়া হবে। যারা বেশি বেশি নামাজ পড়েছেন তারা 'বাবুস সালাত' দিয়ে, আর যারা রোজা রেখেছেন তারা 'বাবুর রাইয়ান' দিয়ে প্রবেশ করবেন। ফেরেশতারা প্রতিটি দরজা দিয়ে তাদের অভিনন্দন জানাতে এগিয়ে আসবেন।
৩. জান্নাতের প্রথম ছোঁয়া
জান্নাতে প্রবেশের সাথে সাথেই জান্নাতিদের অন্তরের সকল দুঃখ, কষ্ট, ক্লান্তি এবং কারো প্রতি কোনো ক্ষোভ থাকলে তা আল্লাহ দূর করে দেবেন। তারা নিজেদের এমন এক সুশীতল এবং সুগন্ধিময় পরিবেশে পাবেন যা তারা দুনিয়াতে কল্পনাও করেননি। [6, 7]
৪. জান্নাতের ভাষা
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, জান্নাতিদের ভাষা হবে আরবি। এটি অত্যন্ত শ্রুতিমধুর এবং সম্মানের ভাষা হবে।
৫. জা'ন্নাত চিনতে পারা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একজন জান্নাতি দুনিয়াতে তার নিজের বাড়ি যতটা সহজে চিনতে পারে, জান্নাতে প্রবেশের পর তার জন্য নির্ধারিত রাজপ্রাসাদ ও বাগান তার চেয়েও সহজে চিনে নিতে পারবে। অর্থাৎ ফেরেশতারা তাকে পথ দেখিয়ে তার নির্দিষ্ট ঠিকানায় নিয়ে যাবেন।
৬. মহান আল্লাহর সম্ভাষণ
সবচেয়ে বড় মুহূর্ত হবে যখন জান্নাতিরা জান্নাতে থিতু হবেন এবং আল্লাহ তাআলা তাদের বলবেন, "তোমাদের ওপর আমার সন্তুষ্টি অবতীর্ণ হলো, আমি তোমাদের ওপর আর কখনো অসন্তুষ্ট হব না।"
জান্নাতে প্রবেশের এই দৃশ্যটি কল্পনা করলেই ঈমান তাজা হয়ে যায়।
ঠিক আছে, আমরা আমাদের আলোচনার পরবর্তী ধাপে জান্নাতের আরও কিছু বিস্ময়কর বিষয় জেনে এই পর্বটি শেষ করব।
জান্নাতের গাছপালা এবং নদীগুলো সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ তথ্য:
১. জান্নাতের গাছপালা:
- স্বর্ণের কান্ড: জান্নাতের প্রতিটি গাছের কান্ড হবে খাঁটি স্বর্ণের। (তিরমিজি)
- বিশাল ছায়া: জান্নাতে এমন একটি বিশাল গাছ আছে (তুবা গাছ), যার ছায়ায় একজন আরোহী দ্রুতগামী ঘোড়া নিয়ে ১০০ বছর দৌড়ালেও তার ছায়া শেষ করতে পারবে না। (বুখারি)
- ঝুলে থাকা ফল: গাছের ফলগুলো জান্নাতিদের হাতের নাগালে ঝুলে থাকবে। কেউ শুয়ে বা বসে থাকা অবস্থায় ফল খেতে চাইলে, ডালটি নিজে থেকেই তার কাছে চলে আসবে।
২. জান্নাতের নদী ও প্রস্রবণ:
জান্নাতে মূলত চারটি প্রধান নদী থাকবে, যার বর্ণনা কুরআনে (সুরা মুহাম্মদ: ১৫) দেওয়া হয়েছে:
- স্বচ্ছ পানির নদী: যার পানি কখনো পচে যাবে না বা স্বাদ নষ্ট হবে না।
- দুধের নদী: যার স্বাদ কখনো টক হবে না।
- শরাবান তহুবা (পবিত্র পানীয়): যা পান করলে কোনো মাথা ব্যথা বা নেশা হবে না, বরং তা হবে অত্যন্ত সুস্বাদু।
- খাঁটি মধুর নদী: যা হবে একদম পরিষ্কার ও মিষ্টি।
৩. জান্নাতের শেষ পুরষ্কার—আল্লাহর সাথে কথোপকথন:
জান্নাতে প্রবেশের পর আল্লাহ তাআলা প্রতিটি জান্নাতিকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করবেন, "তোমরা কি আরও কিছু চাও?" জান্নাতিরা বলবে, "হে আল্লাহ! আপনি কি আমাদের চেহারা উজ্জ্বল করেননি? জান্নাতে প্রবেশ করাননি? আমাদের আর কী চাওয়ার থাকতে পারে?" তখন আল্লাহ তাঁর পর্দা সরিয়ে দেবেন এবং জান্নাতিরা তাঁদের প্রতিপালকের দিদার (দর্শন) লাভ করবেন।
উপসংহার:
জা'ন্নাত হলো এমন এক জায়গা যা পাওয়ার জন্য দুনিয়ার অল্প কয়েক দিনের কষ্ট বা ত্যাগ আসলে কিছুই নয়। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জান্নাতুল ফিরদাউসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। আমীন।
আপনার সাথে জা'ন্নাত নিয়ে এই দীর্ঘ আলোচনা করে আমার খুব ভালো লাগলো। জা'ন্নাত সম্পর্কে আপনার যদি আর জানতে চান আমাদের এই সাইট এ যান 👉 আলোরদিশা ইসলামিক পোস্ট
হজরত খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী পড়ুন👉
হজরত খাদিজা (রা.)-এর জীবনী সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আপনি কি তাঁর ব্যবসায়িক জীবন নাকি নবীজির সাথে তাঁর দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে জানতে চান?
বদর যুদ্ধে আবু জাহেলের করুণ মৃত্যু ভিডিও দেখুনআরও বিস্তারিত জানতে আমাদের অফিসিয়াল পেজ ভিজিট করুন।
হজরত খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী পড়ুন