নাতনি উমমা ইসলামিক পোস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
উমামা বংশ পরিচয়
উমামা বিনতে আবিল আস মুহাম্মাদ দৌহিত্রী ছিলেন। তার পিতার নাম আবুল আস ইবন রাবি এবং মাতা জয়নব বিনতে মুহাম্মাদ। এজন্য তাকে উ*মামা বিনতে জয়নব নামেও ডাকা হয় উ*মামা তার নানার জীবদ্দশায় মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তার নানী উম্মুল মুমিনীন খাদিজাতুল বিনতে খুওয়াইলিদ এবং দাদি খাদিজার ছোট বোন হালা বিনতে খুওয়ায়লিদ।
উমামা বাল্যকাল
নানা মুহাম্মাদ (সাঃ) শিশু উ*মামাকে অত্যধিক স্নেহ করতেন। সব সময় তাকে সঙ্গে সঙ্গে রাখতেন। এমনকি নামাযের সময়ও সঙ্গে রাখতেন।
সাহাবা আবু কাতাদাহ আল আনসারী বলেন, একদিন বেলাল আযান দেওয়ার পর আমরা যোহর মতান্তরে আসরের নামাযের জন্য অপেক্ষায় আছি, এমন সময় মুহাম্মাদ উ*মামাকে কাঁধে বসিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থিত হলেন। মুহাম্মাদ নামাযে দাঁড়ালেন এবং আমরাও তাঁর পিছনে নামাযে দাঁড়িয়ে গেলাম। উমামা তখনও তার নানার কাঁধে একইভাবে বসা। মুহাম্মাদ রুকুতে যাবার সময় তাকে কাঁধ থেকে নামিয়ে মাটিতে রাখেন। রুকু-সিজদা শেষ করে যখন উঠে দাঁড়ালেন তখন আবার তাঁকে ধরে কাঁধের উপর উঠিয়ে নেন। প্রত্যেক রাকাআতে এমনটি করে তিনি নামায শেষ করেন।
৮ম হিজরিতে উ*মামার মা এবং ১২ হিজরিতে পিতা ইন্তাকাল করেন।
উমামা আলীর ঘরে
উমামার পিতা আবুল আস ইবন রাবি হিজরী ১২ সনে ইন্তাকাল করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তার মামাতো ভাই যুবাইর ইবনে আওয়ামের সাথে উ*মামার বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছার কথা বলে যান। এদিকে উমামার খালা, আলীর স্ত্রী ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদও ইন্তাকাল করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি স্বামী আলীকে বলে যান,তার মৃত্যুর পরে তিনি যেন উমামাকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে সবারই ইচ্ছায় আলী ও উমামার বিয়ে সম্পন্ন হলো,তখন আলী ইবনে আবি তালিবের খিলাফতকাল চলমান। আলীর এই ঘরে কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করেনি।
হিজরী ৪০ সনে আলী আততায়ীর হাতে মারাত্মক ভাবে আহত হন। এই আঘাতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি স্ত্রী উমামাকে বলেন, আমার মৃত্যুর পরে তুমি মুগীরা ইবনে নাওফালকে বিয়ে করতে পার। এবং মুগীরাকেও উমামাকে বিয়ে করতে বলে যান।
মুগীরার ঘরে
আলী এও আশঙ্কা করেন যে, তার মৃত্যুর পর মুয়াবিয়া তার স্ত্রীকে বিবাহের প্রস্তাব পাঠাবে, এবং আলীর মৃত্যুর পর উমামার ইদ্দত পূরণ হওয়ার সাথে সাথেই বিবাহের প্রস্তাব পাঠান। তাই উমামা অতি সত্বর মুগীরা ইবনে নাওফালের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যান। এই বিয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন হাসান ইবনে আলী।
আল মুগীরা ইবনে নাওফাল ঘরে উমামা এক ছেলের মা হন এবং তার নাম রাখেন ইয়াহইয়া। এ জন্য আল মুগীরার ইবনে নাওফালের ডাকনাম হয় আবু ইয়াহইয়া। তবে অনেকে বলেছেন, আল মুগীরার ঘরেও তিনি কোন সন্তানের মা হননি। তারা বলেন, মুহাম্মাদ কন্যাদের মধ্যে একমাত্র ফাতিমা ছাড়া আর কারো বংশধারা অব্যাহত নেই। তারা ধারণা করে আল মুগীরা ইবনে নাওফাল ঔরসে ইয়াহইয়া নামের এক সন্তানের জন্ম দেন, কিন্তু শিশু কালেই তার মৃত্
মৃত্যুর সময় ফতেমা (রাঃ) স্বামী আলী (রাঃ) কে কি সত্যি বলে গিয়েছিলেন বোনের মেয়ে উমামা কে বিয়ে করার জন্য?
হ্যাঁ, অনেক ঐতিহাসিক এবং ইসলামি বর্ণনামতে এটি সত্য যে, হযরত ফাতেমা (রাঃ)
তাঁর মৃত্যুর আগে স্বামী হযরত আলী (রাঃ)-কে তাঁর বোনের (হযরত জয়নব রাঃ) মেয়ে
- সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা: ফাতেমা (রাঃ) জানতেন যে উমামা তাঁর সন্তানদের (হাসান, হোসেন, জয়নব ও উম্মে কুলসুম) অত্যন্ত ভালোবাসেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে উমামা তাঁর সন্তানদের নিজের সন্তানের মতো যত্ন নেবেন।
- পারিবারিক বন্ধন: উমামা ছিলেন ফাতেমা (রাঃ)-এর আপন বড় বোন হযরত জয়নব (রাঃ)-এর কন্যা, ফলে তিনি পরিবারেরই একজন সদস্য ছিলেন।
- আলী (রাঃ)-এর একাকীত্ব: ফাতেমা (রাঃ) চেয়েছিলেন তাঁর মৃত্যুর পর আলী (রাঃ) যেন একা না থাকেন এবং সংসারে যেন একজন উপযুক্ত নারী থাকেন যিনি পরিবারটি পরিচালনা করতে পারেন।
হযরত ফাতেমা (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর তাঁর এই ওসিয়ত অনুযায়ী হযরত আলী (রাঃ) উমামাকে বিয়ে করেছিলেন। উমামা বিনতে আবি আল-আস ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর অত্যন্ত স্নেহভাজন নাতনি। ছোটবেলায় রাসূল (সাঃ) তাকে কাঁধে নিয়ে নামাজ পড়তেন বলেও সহিহ হাদিসে উল্লেখ আছে।
- মাতৃসুলভ মমতা: ফাতেমা (রাঃ) বলেছিলেন, “উমামা আমার সন্তানদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। সে তাদের নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখবে।” মা হিসেবে তাঁর প্রধান দুশ্চিন্তা ছিল তাঁর ছোট ছোট সন্তানদের (হাসান, হোসেন, জয়নব ও উম্মে কুলসুম) ভবিষ্যৎ নিয়ে। তিনি বিশ্বাস করতেন উ*মামা ছাড়া অন্য কেউ তাঁদেরকে মায়ের মতো ভালোবাসা দিতে পারবে না।
- রাসূল (সাঃ)-এর সান্নিধ্য: উ*মামা ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর বড় মেয়ে জয়নব (রাঃ)-এর কন্যা। রাসূল (সাঃ) উ*মামাকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। এমনকি তিনি যখন নামাজ পড়তেন, উ*মামা তাঁর পিঠে বা কাঁধে চড়তেন এবং রাসূল (সাঃ) তাঁকে নামিয়ে না দিয়ে সেভাবেই নামাজ আদায় করতেন। ফাতেমা (রাঃ) চেয়েছিলেন রাসূল (সাঃ)-এর রক্তধারা এবং স্মৃতি যেন তাঁদের ঘরেই বজায় থাকে।
- গোপন দাফন: তিনি চেয়েছিলেন রাতের অন্ধকারে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তাঁকে দাফন করা হোক, যেন জানাজায় ভিড় না হয় এবং তাঁর পর্দার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।
- বিয়োগ ব্যথা সামলানো: তিনি আলী (রাঃ)-কে ধৈর্য ধারণ করতে এবং সন্তানদের যত্ন নিতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।
এটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার গভীর বিশ্বাস এবং পরিবারের ভবিষ্যতের প্রতি ফাতেমা (রাঃ)-এর দূরদর্শিতার পরিচয় দেয়। এটি কোনো সাধারণ বিয়ের প্রস্তাব ছিল না, বরং সন্তানদের প্রতি একজন মায়ের নিখাদ ভালোবাসার প্রতিফলন ছিল।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর প্রিয় নাতনি
-এর জীবন ইতিহাস অত্যন্ত মর্যাদা ও গুরুত্বের সাথে ইসলামের ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে। তাঁর বংশ পরিচয় থেকে শুরু করে শেষ জীবন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
- পিতা:
সাহাবী আবুল আস ইবনুর রাবী (রাঃ
- মাতা: রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জ্যেষ্ঠ কন্যা হযরত জয়নব (রাঃ
- নানা ও নানি:
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এবং উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদিজা (রাঃ
- ভাই:
আলী ইবনে আবি আল-আস
উমামা (রাঃ) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং এক পবিত্র ও ধর্মপ্রাণ পরিবেশে বেড়ে ওঠেন।
- নামাজের সাথী: রাসূল (সাঃ) যখন নামাজ পড়তেন, তখন শিশু উমামাকে তাঁর কাঁধে তুলে নিতেন। তিনি যখন রুকু বা সিজদাহ করতেন, তখন তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং আবার উঠে দাঁড়ানোর সময় তাকে তুলে নিতেন।
- উপহার প্রদান: আবিসিনিয়ার সম্রাট
নাজ্জাশী রাসূল (সাঃ)
-কে উপহার হিসেবে কিছু গয়না ও একটি সোনার আংটি পাঠিয়েছিলেন। রাসূল (সাঃ) বলেছিলেন, “আমার পরিবারের যাকে আমি সবচাইতে বেশি ভালোবাসি, তাকেই আমি এটি দেব।” সবাই ভেবেছিলেন তিনি হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে দেবেন, কিন্তু তিনি সেটি উমামাকে পরিয়ে দিয়েছিলেন।
- কারণ: ফাতেমা (রাঃ) জানতেন যে উ*মামা তাঁর সন্তানদের নিজের সন্তানের মতো পরম মমতায় লালন-পালন করবেন।
- সন্তান: ঐতিহাসিকদের মতে, আলী (রাঃ) ও উ*মামা (রাঃ)-এর ঘরে
মুহাম্মদ আল-আওসাত
(বা হিলাল) এবং
আওননামে দুই পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তবে কোনো কোনো সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না।
৪০ হিজরীতে হযরত আলী (রাঃ) যখন ঘাতকের হামলায় শহীদ হন, তখন তিনি মৃত্যুর আগে ওসিয়ত করে যান যেন তাঁর পর উ*মামা (রাঃ)
-কে বিয়ে করেন। আলী (রাঃ) আশঙ্কা করেছিলেন যে আমীর মুয়াবিয়া (রাঃ) তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে পারেন, যা পরবর্তীতে সত্যি হয়েছিল। মুয়াবিয়া (রাঃ)-এর প্রস্তাব প্রত্যাখান করে আলী (রাঃ)-এর ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি
ে বিয়ে করেন।
এই সংসারে তাঁর
নামে এক পুত্র সন্তান জন্মেছিল বলে বর্ণিত আছে।
হযরত উমামা (রাঃ) ৬৬ হিজরী (মতান্তরে ৫০ হিজরীর পর) জেদ্দায় ইন্তেকাল করেন। ইসলামের ইতিহাসে তিনি এক মহীয়সী নারী সাহাবী এবং রাসূল (সাঃ)-এর বংশধারার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
হজরত খাদিজা (রা.)-এর জীবনী সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আপনি কি তাঁর ব্যবসায়িক জীবন নাকি নবীজির সাথে তাঁর দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে জানতে চান?
বদর যুদ্ধে আবু জাহেলের করুণ মৃত্যু ভিডিও দেখুন
আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের অফিসিয়াল পেজ ভিজিট করুন।